স্থাপিত: পঞ্চদশ শতাব্দী

ভক্তির পবিত্র আশ্রয়স্থল

শান্তিপুর বড় গোস্বামী বাড়ি

অদ্বৈতাচার্যের পবিত্র অঙ্গনে আপনাকে স্বাগতম

গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের ইতিহাসে শান্তিপুরের বড় গোস্বামী বাড়ির স্থান অতি উচ্চ। এটি সেই পবিত্র ভূমি যেখানে শ্রী অদ্বৈতাচার্য তাঁর ভক্তিবলে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবকে মর্ত্যে আহ্বান করেছিলেন।

ইতিহাস

পবিত্র ইতিহাস ও কিংবদন্তি

সদাশিব এবং মহাবিষ্ণুর অংশাঅংশী অবতার বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের সাধনক্ষেত্রে আপনাকে স্বাগত। কথিত আছে প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর আগে পিতৃ-মাতৃ বিয়োগের পর শ্রীঅদ্বৈতাচার্য ভারতভ্রমণে বেরিয়ে বর্তমান নেপালের গণ্ডকী নদী থেকে এক পবিত্র নারায়ণ শিলা প্রাপ্ত হন। সেই নারায়ণ শিলা তিনি পরম শ্রদ্ধায় শান্তিপুরে এনে নিত্যসেবা করতেন। অপ্রকট হওয়ার আগে সেই নারায়ণ শিলার পূজার্চনার ভার প্রভু তাঁর প্রিয় পুত্র বলরামের হস্তে অর্পণ করেন। সেই থেকে এখানে নিত্য পূজিত হচ্ছেন আচার্যদেবের সেবিত ওই নারায়ণ শিলা। এছাড়া এখানে আছেন হাজার বছরেরও প্রাচীন শ্রীরাধারমণ বিগ্রহ। এই কৃষ্ণমূর্তি পুরীতে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের আমলে দোলগোবিন্দ নামে পূজিত হতেন। পরবর্তীতে বসন্ত রায় তাঁকে যশোহরে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন, কিন্তু আনুমানিক ১৫৮৮ খ্রীষ্টাব্দে মান সিংহ বাংলা আক্রমণ করলে বারো ভুঁইয়া পরিবার পবিত্রতা রক্ষার জন্য এই মূর্তি তুলে দেন তাঁদের গুরুদেব শ্রীঅদ্বৈত পৌত্র মথুরেশ গোস্বামীর হাতে। মথুরেশ সেই মূর্তি শান্তিপুরে তাঁর নিজ বাটী এই বড়গোস্বামী বাটীতে এনে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীরাধারমণ নামে। পরবর্তীতে আনুমানিক তিনশো বছর আগে এই কৃষ্ণ বিগ্রহের সঙ্গে শ্রীমতি বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের শোভাযাত্রাই শান্তিপুরের ভাঙারাসের শোভাযাত্রা নামে খ্যাতিলাভ করে। এই শ্রীরাধারমণ- শ্রীমতি বিগ্রহই হলেন শান্তিপুরের ইতিহাস প্রসিদ্ধ রাসোৎসবের পুরোধা বিগ্রহ। প্রাচীন এই মন্দিরে আরো রয়েছেন অদ্বৈতাচার্যের প্রিয় মদনমোহন বিগ্রহ, শ্রীজগন্নাথ-বলভদ্র-সুভদ্রা, শ্রীষড়ভুজ মহাপ্রভু, শ্রীরামচন্দ্র এবং অন্যান্য বিগ্রহ। রয়েছেন এই বংশের প্রাণ পুরুষ বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রীঅদ্বৈতাচার্য, স্ত্রী সীতাদেবী ও পুত্র অচ্যুতানন্দের দারুমূর্তিও। এখানকার প্রধান উৎসব ‘রাসযাত্রা’ এবং আচার্যদেবের আবির্ভাব তিথি মাকড়ি সপ্তমী উপলক্ষে ‘অদ্বৈত উৎসব’। ছাড়াও বৈষ্ণব ধর্মের প্রতিটি উৎসব এখানে যথাচিত মর্যাদায় পালিত হয়ে থাকে।

পবিত্র নারায়ণ শিলা

ইতিহাস বলে, পাঁচ শতাব্দী আগে শ্রী অদ্বৈতাচার্য ভারত ভ্রমণকালে নেপালের গন্ডকী নদীতে স্নান করার সময় একটি অলৌকিক 'নারায়ণ শিলা' পান। তিনি এই জীবন্ত শিলা শান্তিপুরে নিয়ে আসেন এবং মহাপ্রভুর তিরোভাবের পূর্বে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র বলরামকে এর সেবার ভার অর্পণ করেন। সেই থেকে বংশপরম্পরায় এই নারায়ণ শিলা পূজিত হয়ে আসছেন।

Narayan Shila

শ্রী রাধারমণের আগমন

মন্দিরের প্রধান বিগ্রহ 'শ্রী শ্রী রাধারমন' ১০০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন। একসময় পুরীতে দোলগোবিন্দ রূপে পূজিত এই বিগ্রহ ১৫৮৮ সালে মথুরেশ গোস্বামী শান্তিপুরে নিয়ে আসেন। পরম আদরে তিনি বিগ্রহকে বড় গোস্বামী বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন।

Radharaman
উৎসব ও পার্বণ

বারো মাসে তেরো পার্বণ

Katyani

কাত্যায়নী পূজা (৩৫০ বছরের ঐতিহ্য)

আপনি কি জানেন পশ্চিমবঙ্গের শান্তিপুরে বড় গোস্বামী গৃহে একমাত্র পূজিতা হন দেবী কাত্যায়নী। পুরান মতে দেবী কাত্যায়নী হলেন ঋষি কাত্যায়নের কন্যা এবং দেবীর নবরূপের একরূপ। দেবী কাত্যায়নীর পূজা করা হয় সিদ্ধিদাত্রী হিসেবে কথিত আছে বৃন্দাবনের সখীরা শ্রীকৃষ্ণ বিরহে এই ব্রত পূজা পালন করেন। প্রায় ৩৫০ বছর ধরে মহালয়ার পরদিন প্রতিপদে ঘটস্থাপন করে পূজা শুরু হয়। এই দেবীর পূজা পদ্ধতি সম্পূর্ণভিন্ন, ভিন্ন দেবীর আকার। দেবী কাত্যায়নী বড় গোস্বামী গৃহে স্বপরিবারে পূজিতা হন। উল্লেখ্যদেবীর কার্তিক ও গনেশ বিপরীতে অধিষ্ঠিত এবং দেবীর আটহস্ত মুষ্ঠিবদ্ধ শিশু কন্যার ন্যায় ও দুই হস্ত সংহারের প্রতীক।

কথিত আছে বড় গোস্বামী গৃহের কূলদেবতা মথুরেশ আনীত শ্রী দোলগোবিন্দ একদা মন্দির থেকে অন্তরীত হন। গোস্বামী প্রভুদের উপদেশে বৃন্দাবনের ন্যায় গোস্বামী বধূরা কাত্যায়নী ব্রত পালন করে এবং দোলগোবিন্দের খোঁজ পাওয়া যায় দীঘনগরের নিকট দীঘিতে। সেইখান থেকে দোল গোবিন্দ উদ্ধার কার্য্য‌ সম্পাদন করেন নদীয়ারাজ পরিবার। এই দোলগোবিন্দ কে পুনরায় মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করা হয় সেই থেকে আজ অবধি কাত্যায়নী পূজা পালিত হয় বড় গোস্বামী গৃহে।।

পূজার সময় ৩৬ ব্যঞ্জন সহযোগে মাতৃভোগ দান হয়। সকালে নৈবদ্যর পর বাল্যভোগ এ থাকে‌ যুগলান্ন ও মুখসুদ্ধিতে থাকে পান।

নবমীর প্রভাতে গোস্বামী পরিবারের সকলে মিলে এক বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেয়। সেই প্রার্থনা প্রথমে বিশ্ববাসী তারপর দেশবাসী তারপর রাজ্যবাসীর উন্নতির প্রার্থনা করা হয়।

Ras Yatra

রাস উৎসব ও ভাঙ্গারাস

রাধারমন জিউকে রাজবেশে সজ্জিত করা হয়। তবে এখানকার বিশেষ আকর্ষণ হলো 'ভাঙ্গারাস' বা নগর সংকীর্তন। বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে বিগ্রহকে নগর ভ্রমণে বের করা হয়।

Jhulan

ঝুলন যাত্রা

শ্রাবণ মাসে ঝুলন পূর্ণিমায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ উৎসব পালিত হয়। রাধারমন এবং শ্রীমতির যুগল বিগ্রহকে ঝুলন মন্দিরে বিশেষ ভোগ ও আরতি নিবেদন করা হয়।

নিত্য সেবা

ভোগ ও পূজা তালিকা

ভক্তরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী রাধারমন জিউর সেবার জন্য বুকিং করতে পারেন।

সাধারণ ভোগ জনপ্রতি

₹ ১১০ / 110
(সরা নিয়ে যাবার জন্য ১৪০ টাকা)
শাক,অন্ন,শুক্ত,ডাল,পোড়ার ভাজা (১ টি),তরকারি (১ প্রকার),চাটনি,পরমান্ন,রসগোল্লা - (১ টি)
বুক করুন

সাধারণ ভোগ জনপ্রতি

₹ ১৫০ / 150
(সরা নিয়ে যাবার জন্য ১৮০ টাকা)
শাক,অন্ন,শুক্ত,মোচা,ডাল,পোড়ার ভাজা (১ টি),তরকারি (২ প্রকার),পায়েস,ছানা (১ টি),চাটনি,পরমান্ন,রসগোল্লা (১ টি)
বুক করুন

অনুষ্ঠান বিশেষ ভোগ জনপ্রতি

₹ ২৬০ / 260
(সরা নিয়ে যাবার জন্য ৩০০ টাকা)
-
বুক করুন
যোগাযোগ

যোগাযোগ ও অবস্থান

ঠিকানা

বড় গোস্বামী বাড়ি, শান্তিপুর, নদীয়া

ফোন

+91 98000-00000

ইমেইল

ayan.goswami@gmail.com

দর্শন সময়

সকাল ৭:০০ - দুপুর ১:০০
বিকাল ৪:০০ - রাত্রি ৮:০০